জনগণের অর্থায়নে বিকল্প রাজনীতির স্বপ্ন: সাত ঘণ্টায় ১২ লাখ টাকা অনুদান পেলেন ডা. তাসনিম জারা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় মেটানো সবসময়ই এক বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত অর্থশক্তি ও পেশিশক্তির প্রভাব নির্বাচনের আমেজকে কলুষিত করেছে বারবার। তবে ২০২৫ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সুর শোনা যাচ্ছে। ঢাকা-৯ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ভোটারদের কাছে অর্থ সহায়তা চাওয়ার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান পেয়ে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।
১৯৫০-এর দশকে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় গ্রাম-বাংলার সাধারণ মানুষ নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে প্রার্থীদের পোস্টার ছাপানো বা প্রচারণার কাজ করতো। সে সময় রাজনীতি ছিল আদর্শের। কিন্তু ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে এবং বিশেষ করে গত ১৫ বছরে নির্বাচনী ব্যবস্থা ও ব্যয়ে ব্যাপক বিচ্যুতি ঘটে। কালো টাকার দাপটে সাধারণ ঘরের মেধাবী সন্তানদের রাজনীতিতে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই প্রথা ভাঙার ডাক দিয়েছিল। ২০২৫ সালে এসে ডা. তাসনিম জারার এই 'ক্রাউডফান্ডিং' বা গণ-অর্থায়ন প্রমাণ করছে যে, বাংলাদেশের মানুষ এখন সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে ডা. তাসনিম জারা জানান, সাত ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান পেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।"
জানা গেছে, ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। ডা. জারা জানিয়েছেন, মোট ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই তারা ফান্ডরেইজিং বা অনুদান গ্রহণ বন্ধ করে দেবেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে ডা. তাসনিম জারা ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে এই আর্থিক সহায়তা চান। এরপরই শুরু হয় অনুদানের জোয়ার। ডা. জারা জানান, রাত ২টার পর বিকাশের নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে সাময়িকভাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। তবে বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের মানুষ যখনই কোনো সৎ নেতৃত্বের সন্ধান পেয়েছে, তখনই তারা জান-মাল দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর বিপ্লব—সর্বত্রই ছিল সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ডা. তাসনিম জারা, যিনি একজন চিকিৎসক ও এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা, তার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রার্থীরা এভাবে জনগণের সরাসরি অর্থায়নে নির্বাচিত হন, তবে তারা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কাছে দায়বদ্ধ না থেকে সরাসরি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। এটিই প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি।
সূত্র: ১. ডা. তাসনিম জারার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. দৈনিক যুগান্তর (জাতীয় রাজনীতি ও বিশেষ প্রতিবেদন)। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ক অনলাইন ডেটাবেস।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |